যেসব খাবার কিডনির সর্বনাশ ডেকে আনে

যেসব খাবার কিডনির সর্বনাশ ডেকে আনে

মানব দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল কিডনি। কিডনি খারাপ হলে আমাদের আমাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। কিডনি রোগে মহিলাদের বিশেষত সচেতন হওয়া দরকার, কারণ পরিসংখ্যান দেখায় যে মহিলারা সবচেয়ে বেশি এই রোগের শিকার হন।

কিডনি সাধারণত পেটের ভিতরে, পিঠের দিকে, মেরুদন্ডের দু পাশে শিমের মতো দেখতে কোমরে অবস্থিত। কিডনিটির প্রধান কাজটি রক্ত ​​পরিষ্কার করা এবং শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেওয়া। যখন কিডনি দেহের এই কাজটি করতে অক্ষম হয়, তখন বোঝা যায় কিডনি সমস্যা হচ্ছে। ডায়াবেটিসে কারণে, জেনেটিক কারণে, মূত্রনালীর সংক্রমণের কারণে কিডনির সমস্যা হয়ে থাকে।

ভুল খাওয়া- দাওয়া অভ্যাসের কিডনি রোগের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিডনির রোগ তখন হয় যখন কিডনি খারাপ হয়ে যায়। যার জন্য অনেক সমস্যা হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অথবা অন্য যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী অসুখ কারণেও কিডনির সমস্যা হয়ে থাকে।

কিডনি রোগের কারণে দেহের অন্যান্য অংশেও প্রভাব পড়তে পারে। যেমন- নার্ভের ক্ষতি, হাড় দুর্বল হয়ে পড়া ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যা দেখা যেতে পারে। যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হয় তাহলে কিডনি সম্পূর্ণ রুপে খারাপ হয়ে পড়ে এবং কিডনি কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

দেহে সোডিয়াম, পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে আমাদের কিডনি। কিন্তু আপনি এদের খেয়াল রাখেন কি? আপনার রান্নাঘরে কিংবা খাবারের তালিকায় এমন অনেক খাবার আছে, যা তিলে তিলে আপনার কিডনির সর্বনাশ ডেকে আনছে।

স্বাদের খাতিরে মাংস খেতেই পারেন কিন্তু অতিরিক্ত মাংস খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। মাংস এমনিতে হজম হওয়া বেশ কষ্টকর। ফলে তা আবার কিডনির ক্ষেত্রে বোঝা হয়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে কিডনিতে পাথর জমতে থাকে। তা ইউরিক অ্যাসিডের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।

লবণ রোজকার খাবারে প্রয়োজন। কিন্তু তাও যখন অতিরিক্ত হয়ে যায় কিডনিতে প্রভাব ফেলে। লবণের অতিরিক্ত সোডিয়াম কিডনির শত্রু। এর জন্য এখন অনেকেই কম সোডিয়াম যুক্ত লবণ খান। তবে বাড়ির খাবারে আপনি লবণ কম-বেশি করে দিতে পারেন, সমস্যা তৈরি হয় প্যাকেটজাত খাবারে। তাই জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলাই ভাল।

কলার অনেক গুণ। দেহে ক্যালসিয়াম ও এনার্জির ঘাটতি মেটায়। কিন্তু আগে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে তাদের এই ফল খাওয়া একদম উচিত নয়। এর অতিরিক্ত পটাশিয়াম কিডনি কার্যকারিতা কম করে দেয়।শীতের বিকেলে অনেকেরই খোসা ছাড়িয়ে কমলালেবু খাওয়ার অভ্যাস আছে। তবে লোভে পড়ে কিংবা অতিরিক্ত ভিটামিন সি’র চাহিদায় বেশি খেয়ে ফেলবেন না। কারণ লেবুতেও প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে আর তা কিডনিতে গিয়ে জমা হতে থকে। তাই পরিমাণমতো খান। বিশেষ করে যাদের যাদের ডায়াবেটিস তারা নিয়ন্ত্রণ না করলে পরবর্তীকালে কিডনি খারাপ হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের কিডনি খারাপ হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে হবে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার ত্যাগ করুন এবং নিয়মিত হাঁটাচলা করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।কিডনি রোগের প্রতিকার করতে চাইলে আমাদের ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরী। যাদের হাই ব্লাড প্রেসার তাদের নিয়মিত নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হতে হবে।

কিডনি ভালো রাখতে গেলে আমাদের প্রত্যেকের খাদ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরী। বাইরের ফাস্ট ফুড, কোল্ড ড্রিংকস খাওয়া বন্ধ করতে হবে। ৬০ শতাংশ লোকের কিডনি খারাপ হওয়ার একমাত্র কারণ ধূমপান বা নেশা করার জন্য। সিগারেট আমাদের কিডনির ক্ষতি করে দেয় যার ফলে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ দেখা যায়। তাই যাদের কিডনি খারাপ তাদের ধূমপান এবং নেশা করা ছেড়ে দেওয়া উচিত। এবং যাদের কিডনি খারাপ নয় তাদেরও ধূমপান এবং নেশা থেকে বিরত থাকা উচিত।

পুষ্টিকর খাদ্য যেমন- ফল, সবজি, শস্য, মাছ, ডিম বেশি করে গ্রহণ করা উচিত। খাবারে সোডিয়াম, পটাশিয়ামের মাত্রা যাতে বেশি না হয়। আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। সঠিক নিয়ম মেনে খাওয়া-দাওয়া করুন, সুস্থ থাকুন। সেই সঙ্গে সুস্থ থাকতে প্রতিটি ব্যক্তির শরীরচর্চা করা উচিত। কিডনি সুস্থ থাকবে বহুদিন।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close
Close