প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি বা মেথি ভেজানো পানি খাওয়ার উপকারিতা

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি বা মেথি ভেজানো পানি খাওয়ার উপকারিতা

মেথি (Fenugreek) একটি বহুল ব্যবহৃত এবং ব্যাপক পরিচিত দানাজাতীয় শস্য। । মেথির ইংরেজি নাম Fenugreek। এর বৈজ্ঞানিক নাম Trigonella foenum graecum। মেথি এক ধরনের ঔষধি গাছ। এতে একবারই ফুল হয় এবং ফল ধরে। মেথি (Fenugreek) হিসেবে আমরা যে জিনিসটা চিনি সেটা আসলে ফলের বীজ। মেথিকে মসলা, খাবার, পথ্য—তিনটাই বলা চলে। মেথির স্বাদ কিছুটা তিতা ধরনের।এই মেথি মশলা হিসেবে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে এটি পাঁচ ফোঁড়নের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

ইউনানী, কবিরাজি ও লোকজ অনেক চিকিত্সাবয় মেথি (Fenugreek) অসুখের নিদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এই মেথি (Fenugreek) যে শুধুমাত্র মশলা নয় তা হয়তো অনেকেরই অজানা। এর ঔষুধিগুণ এত বেশি যে, তা বলে শেষ করা যাবে না। আসুন জেনে নেই মেথির কিছু উপকারিতার কথা: প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খেলে বা এক গ্লাস পানি মেথি ভিজিয়ে রেখে সেই পানি খেতে পারেন।

মেথি শাক ও মশলা হিসাবে এবং আয়ুর্বেদিক ওষুধ প্রস্তুতুতে বহুল পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। কচি পাতা ও ডগা শাক হিসাবে খুবই জনপ্রিয় এবং মসলা হিসাবে মেথির ব্যবহার সর্বজন।মেথি মশলা হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি নানা খাবারের প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবের ব্যবহার হয়। যেমন – মেথি (Fenugreek) পরটা, মেথি রুই, মেথি মুর্গ, হাঁসের মেথি ভুনা, মেথি কলিজা, মেথি মাংস, মেথির ভর্তা ইত্যাদি।

প্রতিদিনের তরকারির সাথে মেথি খাওয়া যায়। মেথির রয়েছে নানান ভেষজ গুণ। যেমন – ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য মেথি (Fenugreek) শ্রেষ্ঠ পথ্য। রক্তে চিনি কমানোর বিস্ময়কর উপাদান হিসেবে মেথি বিবেচিত হয়। সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খেলে অথবা মেথি (Fenugreek) ভেজানো পানি খেলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। ডায়াবেটিস জনিত অসুখগুলো কম হয়,

যাদের ডায়াবেটিস নেই মেথি তাদের জন্যও জরুরি।মেথি ভেজানো পানি পেটের যে কোনো অসুখে এমনকি পেপটিক আলসার সারিয়ে তুলতেও কাজে লাগে। সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খেলে কৃমি ও নানান রোগ দূর হয়।খাবারে মেথির স্বাস্থ্যসম্মত উপস্থিতি ডায়াবেটিক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।মেথি গ্যাস্ট্রিক ও বদহজমের মহৌষধ হিসেবে পরিচিত। মাতৃদুগ্ধ বৃদ্ধির জন্য কালিজিরার মতো মেথি (Fenugreek) পিষে খেলে উপকার হয়। মুখের ঘা, গলার ইনফেকশন- এসব কিছুরই উপশমকারী হলো মেথি।অল্প পানিতে মেথি সিদ্ধ করে সেই পানি ছেঁকে নিয়ে গড়গড়া করলে গলার ইনফেকশনে আরাম পাওয়া যায়।

মেথির মধ্যে আয়রনের মাত্রা বেশি। তাই অনেকে মনে করেন মেথি (Fenugreek) খেলে শরীরে রক্তের পরিমাণ বেড়ে যায়। অর্থাৎ মেথি অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে। এটি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মেথির মধ্যে আছে ভিটামিন-সি, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স। এ ছাড়া আছে মিনারেলস, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন। মেথি ন্যাচারাল হরমোন রিপ্লেসমেন্টে দারুণ সহায়ক, তাই মেনোপোজাল মহিলাদের জন্য মেথি একটি দারুণ ওষুধ।

মেথিতে রয়েছে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন স্ত্রী হরমোন। বিশেষক্ষেত্রে যেসব নারী হরমোন জনিত সমস্যায় ভুগছেন তারা মেথি খেতে পারেন।মানবদেহের হরমোনের স্তর বৃদ্ধিতে বা পরিমাণ বৃদ্ধিতে মেথি সহায়তা করে। মেথির (Fenugreek) রসে ‘সাপোনিস’ বা ‘ডাইওসজেনিন’ নামে এক ধরনের যৌগ পদার্থ আছে, যা মানবদেহের হরমোন স্তর বা এর পরিমাণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।ব্রেস্ট এবং কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রাখে মেথি। সাইনাসের সমস্যা থাকলে বা হার্ট ভালো রাখতে দুই চামচ করে মেথি খেতেই পারেন। মাসিকের ব্যথায় কাঁচা মেথি চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close
Close