চাল ধোয়া পানির উপকারীতা জানলে আর কখনো এই পানি ফেলে দিবেন না

চাল ধোয়া পানির উপকারীতা জানলে আর কখনো এই পানি ফেলে দিবেন না

ভাত রান্নার (rice cook ) আগে আমরা চাল ধুয়ে নিই এবং সাধারণত চাল-ধোয়া-পানি ফেলে দিই। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চাল-ধোয়া-পানির অনেক উপকারিতা আছে; এ পানি ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়! আজকের ‘জীবন যেমন’ অনুষ্ঠানে আমরা চাল-ধোয়া-পানির উপকারিতা নিয়ে কথা বলবো।

মূল আলোচনায় যাবার আগে চাল-ধোয়া-পানিতে কী কী পুষ্টি-উপাদান থাকে-তা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। চাল-ধোয়া-পানিতে নির্দিষ্ট মাত্রার প্রোটিন, ভিটামিন (vitamine) ও অন্যান্য পুষ্টি-উপাদান থাকে। বিশেষ করে প্রথম ও দ্বিতীয়বার ধোয়ার সময় চাল থেকে প্রচুর পটাসিয়াম বের হয়ে যায়। এ পটাসিয়ামসমৃদ্ধ পানি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

গবেষণা থেকে জানা গেছে, চাল-ধোয়া-পানিতে প্রোটিন, শর্করা ও খনিজ পদার্থ থাকে, যা ত্বকের মসৃণতা বাড়াতে পারে। এমনকি, চাল-ধোয়া-পানি গরম করে পান করলে তা হজমের সমস্যা দূর করতে পারে। চীনা ঐতিহ্যবাহী চিকিত্সায় চাল-ধোয়া-পানি পাকস্থলির চিকিত্সায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে বহু কাল ধরে।

চাল-ধোয়া-পানি গরম করার পর তা দিয়ে হাত-মুখ ধুলে, আপনার ত্বকের লোমকূপগুলো পরিষ্কার হবে এবং তা ত্বকের এলার্জি থেকে আপনাকে বাঁচাবে।আরেকটি কথা, প্রথম ও দ্বিতীয়বার চাল ধোয়ার পর যে পানি পাওয়া যায় তার পিএইচ (php) মান ৫.৫। তৃতীয়বার বা চতুর্থবারে চাল-ধোয়া-পানির পিএইচ মান দাঁড়ায় ৭.২। পিএইচ ৭.২ মানের চাল-ধোয়া-পানি সাবানপানির ভূমিকা পালন করতে পারে। এমনকি, এ পানি সাবানপানির চেয়েও বেশি কার্যকর।

ত্বকের লোমকুপ (Lymph) পরিষ্কার করতে চাল-ধোয়া-পানি কীভাবে ব্যবহার করবেন? চাল ধোয়ার প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয়বার যে পানিটুকু পাওয়া যাবে, সেটুকু আলাদা পাত্রে জমিয়ে রাখুন। একটু পরে দেখবেন, পাত্রের তলায় খানিকটা অবশেষ জমবে। তখন উপরের পানিটুকু আলাদা করে সে-পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এখানে একটি কথা বলে রাখি, চাল-ধোয়া-পানি মুখ ধোয়ার কাজে খুব বেশি ব্যবহার করা ঠিক নয়। সপ্তাহে দুই বা তিনবার যথেষ্ট। এই কাজটি এক মাস করে দেখুন। আপনার ত্বক আগের চেয়ে বেশি মসৃণ হবে।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close
Close