জীবনে সফল হতে সুশান্ত পালের সেরা ৫টি উপদেশ।

জীবনে সফল হতে সুশান্ত পালের সেরা ৫টি উপদেশ।

সুশান্ত পাল, ৩০তম বিসিএসে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলেন!১। প্রতিদিন ঘুমাও খুব বেশি হলে ৬ ঘণ্টা। এর চাইতে বেশিও ঘুমাতে পারো, তবে সেক্ষেত্রে তুমি তোমার কাজগুলি ঠিকভাবে করতে পারবে না। কেউ যদি বেশি ঘুমিয়েও তার কাজগুলি ঠিকঠাক করতে পারো, তাহলে অবশ্য বেশি ঘুমানোও খারাপ না। কাজ হওয়া নিয়ে কথা। একটা ঘটনা মাথায় এলো। আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

আমাদের ক্লাস টিচার ছিলেন সুনীল স্যার, গণিতের শিক্ষক।একবার এক ছেলে ক্লাসে জনপ্রিয় কমিকস চরিত্র ফ্যান্টমের খুলি-ওয়ালা বাক্লেসের বেল্ট পড়ে আসে। তা দেখে ওকে স্যার খুব মারলেন। বললেন, “ভদ্র বাক্লেসের বেল্ট কিনে দিতে বলবি তোর বাবাকে!” ও কাঁদতে-কাঁদতে বলল, “স্যার, সুশান্তও সেদিন ড্রাগনের বেল্ট পরে এসেছে। আপনি তো ওকে মারেন নাই!

” স্যারের উত্তর ছিল, “সুশান্ত তো ড্রাগনের বেল্ট পরেও ক্লাসের ফার্স্টবয়। আর তুই কী? ও ড্রাগন, জাগুয়ার, ড্রাকুলা, যা-ই পরে আসুক, কোনও সমস্যা নাই।ও সেকেন্ড টার্মে ম্যাথসে পেয়েছে ৯৯, আর তুই পেয়েছিস ২৬! তুই একটু চক্রবক্র মার্কা কিছু পরে আসলেই মার খাবি, আর ওর সাতখুন মাফ!” স্যারকে ধন্যবাদ।

স্যার আমাকে সেই ছোটবেলাতেই নিজের সবচাইতে উদ্ভট স্টাইলকেও কীকরে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে ফেলতে হয়, সেই বুদ্ধি শিখিয়ে দিয়েছিলেন। সেদিনের পর থেকে আমি আরও বেশি করে পড়াশোনায় মন দিই।২। কষ্ট দিতে হলে নিজেকেই দাও। নিজেকে অসীম কষ্ট দিয়ে হলেও প্রয়োজনীয় কাজটা সম্পন্ন করার মধ্যেই ভবিষ্যতের মঙ্গল নিহিত।

হাতের ছুরিটা নিজের হৃদয়ে চালাও, অন্য কারও হৃদয়ে নয়। এক নিজেকে ছাড়া পুরো পৃথিবীকেই ক্ষমা করে দাও। প্রতিশোধ নিতে হলে নিজের উপরই নাও। নিজেকে আরও বেশি করে খাটিয়ে নাও, নিজেকে কম ঘুমাতে দিয়ে বাড়তি কিছু কাজ করিয়ে না।।৩। রাতে ঘুমাতে গেলে বিছানায় শুয়ে আজ সারাদিনে কী কী করলে, তার একটা হিসেব মনেমনে নাও।

তোমার সাথে আজ কী কী ঘটেছে, ভাবো। যা যা ঘটেছে, সেগুলির কোনওটি যদি তোমার জন্য ভাল হয়, তবে সেটি যাতে মাঝেমধ্যেই ঘটে, সে ব্যবস্থা নাও। আর যদি তা না হয়, তবে ভেবে দেখো, সে ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, তার জন্য তুমি কী করতে পারো। কিছু করার থাকলে, তা নিশ্চয়ই করো। আর যদি কিছুই করার না থাকে,

তবে নিজেই নিজেকে সে ঘটনা ঘটার সকল কারণ থেকে দূরে সরিয়ে আনো।৪। ভেবে দেখো তো, তোমার জন্য কারও কোনও ক্ষতি হচ্ছে কি না! যদি হয়, তবে যা করার কারণে ক্ষতিটা হচ্ছে, তা করা বন্ধ করে দাও! তখুনিই! মাথায় রেখো, তুমি জীবনে যদি কারও কোনও ক্ষতি কর, তবে তার শাস্তি তুমি ফেরত পাবেই পাবে!

জীবনে কারও উপকার করতে পারো না পারো, প্রাণ থাকতে কখনওই কারও কোনও ক্ষতি কোরো ন।।৫। যা যা করেছ, সেসব আর কীভাবে করলে আরও বেশি সুন্দরভাবে করা যেত? সবাই তো কাজ করে, যারা একই কাজটি অন্যদের চাইতে সুন্দরভাবে করতে পারে, লোকে ওদেরকেই মনে রাখে, শ্রদ্ধা করে। একই কাজ নির্ভুলভাবে করে যাওয়া বড় কথা নয়, কাজটি পরেরবার করার সময় আগেরবারের চাইতে সুন্দর করে করাই বড় কথা।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close
Close