দেশ ছাড়ার নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই দেশ থেকে পালান ওসি সোহেল

দেশ ছাড়ার নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই দেশ থেকে পালান ওসি সোহেল

প্রতারণা করে গ্রাহকের ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর গ্রেফতার এড়াতেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের পৃষ্ঠপোষক বনানী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা।

তিনি মূলত ভারত বা নেপাল হয়ে ইউরোপ অথবা আমেরিকায় পালিয়ে যেতেন বলে জানা গেছে। তবে তার আগেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক হন তিনি। দেশ ছাড়ার নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

নগদ টাকা পরিশোধের পরেও মাসের পর মাস পণ্য না পাওয়ার অভিযোগে গত ১৭ আগস্ট ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন তাহেরুল ইসলাম নামে এক গ্রাহক। মামলায় প্রতারণামূলকভাবে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের কথাও উল্লেখ করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির এমডি ও চেয়ারম্যান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। এরপর অভিযোগ ওঠে, ই-অরেঞ্জের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়ার ভাই বনানী থানার তদন্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা ওই টাকা আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত।

এরপর গুলশান থানার মামলাটি সিআইডি তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে সিআইডি টাকা পাচারের বিষয়টি জানতে পারে। আর সেই পাচারের সঙ্গে জড়িত এবং মূলহোতা হিসেবে নাম উঠে আসে বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানার। তখন সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি পুলিশ সদর দফতরে চিঠি লেখে। তবে সেই চিঠির কোনো সমাধান না হতেই সোহেল রানা কাউকে না জানিয়েই ভারতে পালিয়ে যায়।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, সোহেল রানার নেতৃত্বেই পুরো কোম্পানির প্রতারণামূলক কার্যক্রম চলতো। তিনি অভয় দিয়ে বলতেন, কোম্পানির কারও কোনো সমস্যা হবে না। প্রায় প্রতিটি মিটিংসহ সবকিছুতেই সোহেল রানা উপস্থিত থাকতেন।

প্রতিদিন গ্রাকদের জমা করা টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হতো। সেই টাকার কমপক্ষে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে সিআইডি জানিয়েছে।

একটি সূত্র বলছে, শিলিগুড়ি ও চ্যাংড়াবান্ধা হয়ে নেপাল যাওয়ার চেষ্টা করেন সোহেল। বিএসএফের হাতে আটকের সময় তার কাছে একটি আইফোন, একটি এলজি ব্র্যান্ডের ফোন, তিনটি মোবাইল সিম কার্ড, পাঁচটি ডেবিট কার্ড, গাড়ি পার্কিং কার্ড, কিছু ওষুধপত্র, ২০ ইউএস ডলার, ১৫ ইউরো এবং মাল্টিপল পাসপোর্ট ভিসা পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের পরিচয় স্বীকার করে তথ্য দিয়েছেন সোহেল। তিনি জানান, নেপালে এক বন্ধু তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ওই বন্ধুর কাছেই যাচ্ছিলেন। ধরা পড়ার সময় তার কাছ থেকে থাইল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়। তার পাসপোর্টে ভারতের ভিসা না থাকলেও ছিল থাইল্যান্ড, সৌদি আরব, ফ্রান্স, চীন ও সেনজেন ভিসা।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close
Close