‘মুসলিমদের কুকুর’ বলা উগ্র বৌদ্ধ গুরুর মুক্তি

‘মুসলিমদের কুকুর’ বলা উগ্র বৌদ্ধ গুরুর মুক্তি

তার নাম আশিন উইরাথু। মিয়ানমারের এক বৌদ্ধ ধর্মগুরু তিনি। সেই আশিন উইরাথুর রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের পক্ষে সাফায় গেয়েছেন।

শুধু তাই নয় নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের ওপর জুলুম নির্যাতনের পক্ষে জনমত গঠন করেছেন বিশ্বব্যাপী তিনি পরিচিত ‘দ্য ফেস অব বুদ্ধিস্ট টেরর’।২০১৩ সকালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে এই নামেই চিহ্নিত করে।

সেই উগ্র জাতীয়তাবাদী ও মুসলিম রোহিঙ্গাবিরোধী বৌদ্ধ ভিক্ষু আশিন উইরাথুকে মুক্তি দিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার। এর আগে অং সান সু চি সরকার রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে আশিন উইরাথুকে আটক করেছিল।আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানায়,

সামরিক জান্তাদের পক্ষে তার কট্টর অবস্থানের জন্য পরিচিত আশিন উইরাথু। আল-কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন-লাদেনের সঙ্গে তুলনা টেনে তাকে বৌদ্ধাদের ‘বিন-লাদেন’ নামেও ডাকা হয়। ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে মিয়ানমারের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা ছড়ানো ও অবমাননা’ উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এরপর থেকে পলাতক ভিক্ষু উইরাথু গত বছরের নভেম্বরে কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এরপর থেকে তিনি বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন।এদিকে সোমবার( ৬ সেপ্টেম্বর) সামরিক জান্তা সরকারের এক মুখপাত্র জানায়, সমস্ত অভিযোগ থেকে আশিন উইরাথুর নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে । এছাড়া তাকে সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারে মুসলিম ও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উস্কে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে আশিন উইরাথুর বিরুদ্ধে। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা অবস্থায় প্রতিদিন এই বৌদ্ধ ধর্মগুরু ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য পোস্ট করার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের আগ্রাসী বিদেশি শক্তি হিসেবে মিয়ানমারের জনমানসে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন।

২০১২ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গা ও বৌদ্ধদের মারাত্মক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার জন্য তার বক্তৃতাকে দায়ী করা হয়। ওই সময় হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া ডিভিশনের মুখপাত্র ফিল রবার্টসন বলেছিলেন, ফেসবুকে কেউ স্বস্তিকা (হিটলারের প্রতীক) পোস্ট করলেও সেটা সরিয়ে নেয়া হয়। কিন্তু উইরাথু মুসলিমদের কুকুর বলে বক্তব্য দিলেও তার বিদ্বেষপ্রসূত পোস্টের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না।

আশিন উইরাথুর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট লাখো মানুষ অনুসরণ করতো, তার পোস্টে বিকৃত ও গলিত লাশের ছবি, ভিডিও থাকে যেগুলোকে তিনি রোহিঙ্গাদের আক্রমণে নিহত বৌদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি তার পোস্টে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙ্গালি’ বলে অভিহিত করতেন। পরে ফেসবুক তার কিছু পোস্ট সরিয়ে নেয় এবং কিছু সময়ের জন্য তার পেজ রেস্ট্রিক্টেড করে রাখা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close
Close