ডিসেম্বরেই প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, প্রস্তুতি চলছে

ডিসেম্বরেই প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, প্রস্তুতি চলছে

আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ধাপে ধাপে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

এদিকে এ ৩২ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পেতে প্রায় ১৩ লাখের বেশি প্রার্থী আবেদন করেছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে ধাপে ধাপে এ পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও করোনা ভাইরাসের ঊধ্বমূখী সংক্রমণের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। প্রার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় আছেন। তাদের জোর প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।পরীক্ষার অপেক্ষায় ১৩ লাখ প্রার্থী :

গতবছরের অক্টোবর মাসে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার ৫৭৭ জন সহকারী শিক্ষকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। প্রাক প্রাথমিকে ২৫ হাজার ৬৩০ জন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্যপদে ৬ হাজার ৯৪৭ জনকে এ বিজ্ঞপ্তির আলোকে নিয়োগ দেওয়া হবে। গতবছরের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এ নিয়োগের আবেদন গ্রহণ করা হয়। এসব শিক্ষক পদে নিয়োগ পেতে ১৩ লাখ ৫ হাজার প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। এ প্রার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষার অপেক্ষায় আছেন।

প্রার্থীরা বলছেন, গতবছর আবেদন করেছি। এ বছরের শুরুতে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। পরে কর্মকর্তারা বলেছিলেন স্কুল খুললে পরীক্ষা হবে। কিন্তু স্কুল খুলে গেলেও পরীক্ষা সুস্পষ্ট দিন তারিখ ঘোষণা হয়নি। আমরা দ্রুত পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগ পেতে চাচ্ছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট আছে। আমরা নিয়োগ পেলে সে সংকট কাটবে। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী :

আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে মত বিনিময় অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেছেন, এ নিয়োগ সম্পন্ন হলে শিক্ষকরা আরও স্বাচ্ছন্দে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারবেন।শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কবে :

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ঠিক কবে অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে জানতে দৈনিক আমাদের বার্তা দারস্থ হয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের। এ পরীক্ষা আয়োজনের কাজ করছে অধিদপ্তরের পলিসি ও অপারেশনস্ শাখা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখার পরিচালক মনীষ চাকমা দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেন, এ পরীক্ষা অতি শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে। খুব তাড়াতাড়ি আপনারা ঘোষণা পাবেন। করোন পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা জাতীয় পরামর্শক কমিটি ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনাগুলো মাথায় রেখে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

১৩ লাখ প্রার্থীর পরীক্ষা অংশ নেওয়ার কথা আছে উল্লেখ করে তিনি আমাদের বার্তাকে আরও বলেন, এতো প্রার্থীর পরীক্ষা এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। তাই প্রচলিতভাবে ধাপে ধাপে পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা আমাদের আছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি :পরিচালক আরও জানান, করোনা পরিস্থিতি মাথায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জাতীয় পরমর্শক কমিটি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যেসব নির্দেশনা দিয়েছে তা মেনে পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। জাতীয় পরামর্শক কমিটি ও মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশনা মেনে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য আমার ৬৪টি পয়েন্টের চেকলিস্ট ধরে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নিতে এ মুহুর্তে প্রার্থীদের জন্য হ্যান্ড স্যনিটাইজারসহ অনুষাঙ্গিক ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে। চেকলিস্ট অনুযায়ী প্রস্তুতি শেষ করে পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে। পরীক্ষার তারিখ সবার আগে জানবেন প্রার্থীরা : পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে প্রার্থীদের উদ্বিগ্ন না

হওয়ার পরামর্শ দিয়ে পরিচালক মনীষ চাকমা আরও বলেন, এ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হলে তা সবার আগে প্রার্থীরা জানবেন। পরীক্ষার তারিখ প্রার্থীদের মোবাইলে এসএমএস করে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। প্রার্থীরা ওয়েবসাইট থেকে অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করে পরীক্ষায় অংশ নেবেন। আমরা বুয়েটের মাধ্যমে আবেদন নিয়েছি। পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ হলে আমরা বুয়েটকে জানাবো। তারা অটোমেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক ক্লিকেই ১৩ লাখ প্রার্থীর কাছে এসএমএস পাঠাবেন। তিনি আরও বলেন, ‘খুব শিগগিরই এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমি প্রার্থীদের পরামর্শ দেবো শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য। পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close
Close