বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন কাটা পড়ল ট্রেনে

বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন কাটা পড়ল ট্রেনে

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েটে) পড়াশোনা শেষ করে সোনলী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসাবে যোগদান করেন মঞ্জুরুল হাসান নাসিম। এরই মাঝে তিনি বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ৪০তম বিসিএসে লিখিত পরীক্ষাও দিয়েছেন। পরীক্ষাও ভাল হয়েছে। ভাইভার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নাসিম।

এর আগেই সব শেষ হয়েছে। ঢাকায় এসেছিলেন ভাইভার বই কিনতে। সেই বই নিয়ে আর বাসায় ফেরা হল না নাসিমের। শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) ভোরে জয়পুরহাটের পুরানাপৈল রেলগেট এলাকায় রাজশাহীগামী উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেন ও বাসের সঙ্গে সংঘ’র্ষের ঘটনায় প্রাণ হারানো ১২ জনের একজন ছিলেন নাসিম।

তিনি জেলার পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা গ্রামের মৃ’ত মোশারফ হোসেন মজনুর ছেলে।মা সিদ্দিকা বেগম জানান, স্বামী মোশারফ হোসেন মজনু এক বছর আগে মারা গেলেও দুই ছেলে মেহেদী হাসান ও মঞ্জুরুল ইসলাম নাসিমকে নিয়ে অনেক অভাব অনটনে চলতো সংসার।

ছোট ছেলে নাসিম রাজশাহী রুয়েট থেকে ২০১৬ সালে পাশ করে সোনালী ব্যাংকে চাকরি পাওয়ায় অনেকটা অভাব কেটে যায়। বর্তমানে সে হিলি হাকিমপুর শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসাবে কিছুদিন আগে যোগদান করে। তিনি আরও বলেন, এরমধ্যে গত বিসিএসে তিনি অংশগ্রহণ করেন। চলছে ভাইভা দেওয়ার প্রস্তুতি।

ভাইভা দেওয়ার প্রস্তুতি হিসাবে নাসিম ঢাকা যায় এক সপ্তাহ আগে। বন্ধুদের সঙ্গে ভাইভার পরামর্শ নিয়ে পঞ্চগড় আন্তঃনগর ট্রেনে জয়পুরহাট স্টেশনে নেমে বাড়ি ফেরার জন্য শনিবার সকালে ওই বাসে ওঠে।বিধিবাম বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন তো দূরের কথা শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরতে হলো লাশ হয়ে। পরে শনিবার সন্ধ্যায় বাবার কবরের পাশেই নাসিমের লাশ দাফন করা হয়। প্রতিবেশী আজাদ আলী জানান, মাকে শান্তনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না।যুগান্তর ডেস্ক
২১ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close
Close