এই চার ঔষধ আপনার লিভারকে ড্যামেজ করে। সুস্থ থাকতে চাইলে এখুনি লিভার পরীক্ষা করান।

লিভারের রোগের নতুন ও কম খরচে চিকিৎসা পদ্ধতি বের করেছেন বাংলাদেশের চিকিৎসকদের একটি দল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দলটি বলছে, তাদের উদ্ভাবিত স্টেম সেল থেরাপি এবং বিলিরুবিন ডায়ালাইসিসের এ পদ্ধতিতে প্রচলিত যন্ত্রপাতিকেই নতুন ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে – যাতে অনেক কম খরচে অকার্যকর লিভার বা হেপাটাইটিসের চিকিৎসা করা যাবে।

তারা বলছেন, তাদের এ পদ্ধতির কথা ইতিমধ্যেই তারা কয়েকটি আন্তর্জাতিক চিকিৎসক সম্মেলনে তুলে ধরেছেন।

এই গবেষণা দলের একজন বিএসএমএমইউর লিভার বিভাগের অধ্যাপক মামুন আল মাহতাব বিবিসি বাংলাকে বলছেন, লিভার সিরোসিস কিম্বা অন্য কোন কারণে যখন কারো লিভার অকার্যকর হয়ে যায় তখন এই চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

এরকম হলে একমাত্র চিকিৎসা হলো লিভার প্রতিস্থাপন। কিন্তু বাংলাদেশে দুর্ভাগ্যজনক হলেও এখনও পর্যন্ত লিভার প্রতিস্থাপন করা যাচ্ছে না। প্রতিবেশী ভারতে এই চিকিৎসায় খরচ হয় বাংলাদেশী টাকায় ৪০ লাখেরও বেশি। এজন্যে আমরা নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছি।”

এজন্যে দুটো পদ্ধতি। একটা হলো স্টেম সেল চিকিৎসা আর অন্যটি ডায়ালাইসিস।

আমরা যা কিছু খাই, খাবার থেকে শুরু করে ঔষধ সবই আমাদের লিভার মারফত ফিল্টার হয়। শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেয়। এমনকি কোন পুষ্টি সঞ্চয় করবে তা নির্ধারণ করে। চর্বি ভেঙ্গে দেয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

কিছু ঔষধের মধ্যে কিছু সাধারণভাবে নির্ধারিত এবং ওভার-দ্য-কাউন্টার চিকিৎসা রয়েছে যা লিভারের ক্ষতি করতে পারে এবং ড্রাগ-প্ররোচিত হেপাটাইটিসের মতো রোগ সৃষ্টি করতে পারে। যদিও ওই ওষুধগুলি নানা রোগের চিকিৎসা এবং ব্যথা উপশম করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। তবে তাদের অনেকেরই আমাদের দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির ক্ষতি করার সম্ভাবনা রয়েছে।চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে আমরা আপনাকে বেশ কয়েকটি ওষুধ দেখাব যা আপনার লিভারের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী দীর্ঘস্থায়ী লিভারের ক্ষতি ওষুধের একটি সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া।

উদাহরণস্বরূপ, বিষের কারণে সৃষ্ট হেপাটাইটিস। এখানে কিছু জনপ্রিয় ঔষধ যা আপনার লিভারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, সেইসাথে এই প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা এড়ানোর উপায়।

১. অ্যান্টিবায়োটিক

অ্যান্টিবায়োটিক যেমন অ্যামোক্সিসিলিন, ক্লিন্ডামাইসিন এবং ট্রাইমেথোপ্রিম লিভারের বিরাট ক্ষতি করতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা সাধারণত অসুস্থতা এবং প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করে ৭ থেকে ১০ দিন সময় নেয়। যাইহোক, যদি এই সময় বাড়ানো হয়, এটি লিভারের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

২. প্যারাসিটামল

যখন আমরা নানা যন্ত্রণায় ভুগি , তখন এটি আমাদের প্রথম প্রতিকারের একটি ঔষধ । দুর্ভাগ্যবশত, আমরা প্রায়ই চিকিৎসা পরামর্শ চাই না, যা মারাত্মক হতে পারে। লিভারের আঘাতের অন্যতম সাধারণ কারণ হতে পারে এই স্ব-ওষুধ।

৩. অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি

এগুলিও নিয়মিত ব্যবহৃত ওষুধ। পেশী প্রদাহের কোন ইঙ্গিত অনুমান করে কিংবা মাথাব্যাথা হলে এই ঔষধ খাই ।

৪. স্ট্যাটিন

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখতে এই ওষুধগুলি ব্যবহার করা হয়। ফলস্বরূপ, ডোজটি নেওয়ার সময় একজন পেশাদার চিকিৎসককে সাবধানে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। তাদের নিয়মিত বিরতিতে তাদের রোগীদের পরিমাপ এবং পরীক্ষা করতে হবে।লিভার ফুলে যাওয়ার নানা লক্ষণ

১. পেটে ব্যথা
২. জন্ডিস হল এক ধরনের জন্ডিস যা হয় (চোখ এবং ত্বকে হলুদ স্বর)
৩. প্রস্রাব যা কালচে রঙের
৪. খিটখিটে ত্বক
৫. খিটখিটে অন্ত্র সিন্ড্রোম
৬. অসুস্থতা

উপদেশ

ওষুধের কারণে লিভারের সমস্যা এড়ানোর সময় মনে রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিজের মত ঔষধ খাওয়া কখনই নয়। পরিবর্তে, যদি আপনি কোন অস্বস্তি অনুভব করেন তবে আপনার ডাক্তারকে দেখান।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button
Close
Close