গর্ভে সন্তান ধারণ করেও পরিচয় নিয়ে বিব্রত ‌‘পুরুষ মা’

দীর্ঘ ৯ মাস নিজের গর্ভে সন্তান ধারণ করেও পরিচয় দিতে বিব্রত হচ্ছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের ৩৭ বছর বয়সী এই পুরুষ মা বেনেট ক্যাসপার উইলিয়ামস। বেনেট ক্যাসপার উইলিয়ামস ২০১১ সালে প্রথম টের পান তিনি পরিবর্তিত হচ্ছেন ধীরে ধীরে। তিন বছর পর্যন্ত তিনি নিজেকে স্বেচ্ছা-স্থানান্তর করতে চাননি। ছয় বছর পর তিনি তার ভভিষ্যৎ ‘স্বামী’ মালিককে খুঁজে পান। ২০১৯ সালে তাঁরা বিয়ে করেন।

এর পর এই দম্পতি সিদ্ধান্ত নেন, তারা সন্তান জন্ম দেবেন। এর পর তারা খুঁজতে থাকেন- সন্তান নেওয়ার কোন কোন সুযোগ তাদের জন্য আছে কিনা। বেনেট মনে করেন গর্ভধারণ এবং সন্তান গর্ভে বহন করা তার জন্য সুবিধাজনক হবে। বেনেট বলেন, পুরুষ হলেও আমি মোটামুটি নিশ্চিত ছিলাম যে আমি গর্ভধারণ করতে পারব।

কিন্তু এটি এমন কিছু ছিল না যা আমি কখনো করতে চাইনি, যতক্ষণ না আমি শিখেছি লিঙ্গসংক্রান্ত কোনো ধারণা থেকে আমার শরীরের কার্যকারিতাকে কিভাবে আলাদা করতে হয়। আমি আমার শরীরকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ভাবতে শিখেছি। লিঙ্গভিত্তিক স্টেরিওটাইপ নয়,

আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমি এমন ব্যক্তি হতে পারি যে একটি শিশুকে পৃথিবীতে আনতে পারে। যতক্ষণ না আপনি চেষ্টা না করেন ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ সত্যিই জানতে পারবে না যে সন্তান ধারণ করা সম্ভব কি-না। জরায়ু নিয়ে জন্ম নিলেই গর্ভ ‘ধারণ বা বহন’ নিশ্চিত হয় না। তিনি আরো বলেন, আসুন আমরা ‘মাতৃত্ব’র প্রেক্ষিতে ‘নারীত্ব’ সংজ্ঞায়িত করা বন্ধ করি। কারণ এটি মিথ্যা যে সব নারীই মা হতে পারেন। যে সমস্ত মা তাদের সন্তান বহন করে বা যে সমস্ত পুরুষরা সন্তান বহন করেন- তারাই মা। এর কোনোটিই সর্বজনীনভাবে সত্য নয়।

বেনেট ২০২০ সালের অক্টোবরে সিজারিয়ানের মাধ্যমে হাডসন নামে একটি সুন্দর শিশুর জন্ম দেন।কিন্তু হাসপাতালে থাকার সময় বেনেটকে বার বার ‘লিঙ্গ’ নিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল। তাঁর মুখের দাড়ি আর তাঁর সমতল বুক এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণ ছিল। এ ছাড়া তাঁকে ‘মা’ না ডাকায় নার্সদের ওপর ভীষণ খেপেন তিনি।

তিনি বলেন, আমার গর্ভাবস্থা আমাকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। ‘ভুল লিঙ্গ’ আমার গর্ভাবস্থায় চিকিৎসাসেবা নেওয়ার সময় আমার প্রধান প্রতিবন্ধকতা ছিল। আমার দাড়ি, একটি চ্যাপ্টা বুক এবং একটি ‘পুরুষ লিঙ্গ’ চিহ্নিতকারী থাকলেও, লোকেরা আমাকে ‘মা’ বা ‘ম্যাম’ বলে ডাকতে পারেনি। আর এটাই আমাকে বিষণ্ন আর অসন্তুষ্ট করে তুলেছিল।

বেনেট বলেন, গর্ভবতী হওয়ার কিছুই আমার কাছে ‘মেয়েলি’ বলে মনে হয়নি। আসলে, আমি মনে করি একটি শিশুকে বহন করা, মহামারির কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং একা সমস্ত হাসপাতাল ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের মুখোমুখি হওয়া আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন, সাহসী কাজ ছিল। আমি একজন বাবা যে নিজের সন্তানকে তৈরি করেছে- এ কথা বলার চেয়ে শক্তিশালী আর কিছুই হতে পারে না।

তিনি বলেন, বাবা হওয়ার সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো হাডসনকে নতুন আবিষ্কারগুলো শেয়ার করা। যখন সে আবিষ্কার করে সে নতুন কিছু করতে পারে, এবং ‘ডাডা’ বলে চিৎকার করে আমার কাছে ছুটে যায়- এটাই আমার সেরা মুহূর্ত। শিশুরা এক আশ্চর্য প্রাণী যারা প্রাপ্তবয়স্কদের মতো একই চোখে বা পূর্ব ধারণা নিয়ে বিশ্বকে দেখে না।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close
Close