সাধারন এই ১০টি বিষয় নিজের অজান্তেই আপনার রাতের ঘুম কেড়ে নেয়

যারা ভাগ্যবান, তাদের ঘুম হয়তো এমনিতেই চলে আসে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে অনেক সাধনা করেও ঘুমের দেখা মেলে না। ঘুমের জন্য সময় মেনে চলা খুবই জরুরি। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার নিয়ম মেনে চললে অনেক অসুখ থেকেই দূরে থাকা সম্ভব।ভালো ঘুমের জন্য বাদ দিতে হবে কিছু অভ্যাস। কারণ সেই অভ্যাসগুলোই ঘুম না আসার জন্য দায়ী। চলুনে দেখে নিই বিস্তারিত-

১. মোবাইল বা ল্যাপটপে স্ক্রল ঘুমের আগে বিছানায় শুয়ে মোবাইল বা ল্যাপটপে চোখ রাখেন- এমন লোকের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু এই বদ অভ্যাসই আপনার ঘুমকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। এর ফলে স্ক্রিনের নীল আলো মস্তিষ্ক থেকে মেলাটোনিন নিঃসরণে বাধা দেয়। মেলাটোনিন আমাদের ঘুমাতে সাহায্য করে। ২. চা কিংবা কফি চা কিংবা কফি কোনোটাই স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত তা পরিমিত খাওয়া হয়। তবে চা আর কফিতে থাকা ক্যাফেইন ঘুম নষ্ট করে দিতে পারে। অ্যাড্রিনালির নিঃসরণ বাড়িয়ে ঘুমকে দূরে ঠেলে দিতে পারে।

৩. তৈলাক্ত খাবার ভাজাভুজি, নানারকম মজাদার তৈলাক্ত খাবার খেতে বেশ লাগে। কিন্তু খাওয়ার পরে দেখবেন, রাতে আর ঘুম আসতে চাইছে না। কারণ হজম প্রক্রিয়া ঠিক না থাকলে ঘুম দূরে পালাবেই। তাই রাতে এমন সব খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৪. ধূমপান ধূমপান শরীরের জন্য ক্ষতিকর এ কথা সবারই জানা। ধূমপানের কারণে শ্বাসনালী ও ফুসফুসের ক্ষতি হয়, পাশাপাশি ব্যাঘ্যাত ঘটে ঘুমের ক্ষেত্রেও। চাপ কমাতে অনেকে সিগারেট খেয়ে থাকেন। এতে হিতে বিপরীত হয়। সিগারেটে থাকা নিকোটিন ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।৫. ফোনে কথা বলা অনেকে মনে করতে পারেন ঘুমের সাথে কথা বলার সম্পর্ক কি হতে পারে। কিন্তু যারা ফোনে বেশি কথা বলেন বিশেষ করে রাতের দিকে তারা সব চাইতে বেশী অনিদ্রা রোগে ভোগেন। কথা বলার সময় আমাদের দেহের এনার্জির মাত্রা বাড়তে থাকে। এছাড়া ফোনের রেডিয়েশন আমাদের মস্তিষ্ককে সজাগ রাখতে সাহায্য করে।

৬. চিনি বিভিন্ন রকম খাবারে প্রসেস করা যেসব চিনি ব্যবহার করা হয় তা রক্তে মিশে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে ঠিকই কিন্তু এর কার্যকারিতাও খুব দ্রুত শেষ হয়। যে কারণে রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। ৭. অতিরিক্ত টিভি দেখা অনেকের শোবার ঘরে টিভি রাখা আছে। রাতের বেলা শোবার সময় টিভি ছেড়ে ররাখার অভ্যাস অনেকের রয়েছে। এছাড়া সারাদিন কাজের শেষে রাতের বেলা টিভি দেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন অনেকেই। এই কাজটিও ঘুম না আসার জন্য দায়ী। ৮. কোমল পানীয় কোমল পানীয় শরীরের রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত করে। কোমল পানীয়র অতিরিক্ত চিনি ও গ্যাসীয় উপাদান ঘুমের সাইকেল ও ঘুম উদ্রেককারী হরমোনের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করে থাকে।

৯. বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেশি পরিমাণে প্রোটিন খেলে ঠিক মতো ঘুম আসে না। মাংস, ডাল, চর্বি জাতীয় খাবার হজম হতে বেশি সময় নিয়ে থাকে। তাছাড়া প্রোটিন শরীরে প্রচুর এনার্জি তৈরি করে। এতে শরীর শান্ত হওয়ার পরিবর্তে উত্তেজিত হয়। তাই রাতে এসব খাবার পরিমাণ মত খাবেন। ১০. রাত জেগে কাজ করা অনেকের রাতের বেলা জেগে কাজ করার বদ অভ্যাস রয়েছে। এই কাজটি ঘুম না আসার জন্য দায়ী একটি কাজ। রাত জেগে কাজ করার ফলে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। এই মানসিক চাপ মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে অনেকক্ষণ। এই কারণে রাত ১০ টার আগেই শেষ করে ফেলার অভ্যাস করুন। ঘুমের সমস্যা দূর হবে।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button
Close
Close