উন্নয়ন প্রকল্পে চাকরিপ্রার্থীদের বয়সসীমা থাকছে না

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর। তবে মুক্তিযোদ্ধা, চিকিৎসক আর বিশেষ কোটার ক্ষেত্রে এই বয়সসীমা ৩২ বছর। সরকারি ছাড়াও আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানেও একই বয়সসীমা অনুসরণ করা হয়। তাছাড়া সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পেও চাকরিপ্রার্থীদের বয়সসীমাও ৩০ বছর নির্ধারিত। তবে সার্বিক দিক বিবেচনা করে উন্নয়ন প্রকল্পে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের বয়স ৩০ বছরের মধ্যে সীমিত থাকছে না। এই শর্ত শিথিলের চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে উন্মুক্ত রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে রাজস্ব খাতের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়স ৩০ বছরেই সীমিত থাকবে।

এ বিষয়ে ইতিমধ্যে একটি ধারণাপত্র তৈরি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, সরকারের উন্নয়ন বাজেটের আকার বাড়ছে। প্রকল্পের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু দেশে দক্ষ জনবলের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। তাই দক্ষ জনবলের ঘাটতি পূরণে অভিজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়া জরুরি।

“এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের চাকরি শেষ হওয়ার পর অনেকে বেকার হয়ে পড়ছেন। এতে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। তাছাড়া মানুষের গড় আয়ুও বাড়ছে। মানুষের কর্মক্ষমতা দীর্ঘদিন থাকছে। এসব দিক বিবেচনা করে উন্নয়ন প্রকল্পে চাকরির সর্বোচ্চ বয়সসীমা শিথিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
এখন এই ধারণাপত্রের ওপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়া হবে। সবার মতামত নিয়ে এ ব্যাপারে একটি নির্দেশনা জারি করা হবে।

ওই ধারণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্পের চাকরিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা যে ৩০ বছর হতে হবে, তা সরকারি কোনো নির্দেশনায় উল্লেখ নেই। এটি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অজ্ঞতাপ্রসূত এবং আগের ধারাবাহিকতামাত্র। সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাবে বয়সসীমা নির্ধারণের মাধ্যমে প্রকল্পে কর্মরত জনবলকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিজ্ঞ জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সরকারের কাজে গতি আনতে জরুরি। ন্যায়বিচারের স্বার্থেও এই জটিলতার নিরসন হওয়া দরকার।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তারা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়োগে বেতন বৃদ্ধি ও ভাতা পাওয়ার সুবিধা নেই। তাই উন্নয়ন প্রকল্পে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণের কোনো যৌক্তিকতা থাকা উচিত নয়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ছোট-বড় সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পে এখন চারভাবে নিয়োগ হয়। প্রথমত, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রেষণে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও উপ-প্রকল্প পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ত, সহকারী প্রোগ্রামার ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের মতো পদগুলোতে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়। তৃতীয়ত, গাড়িচালক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ হয়। চতুর্থত, একজন সরকারি কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রকল্পে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু অভিজ্ঞ মানুষের সংখ্যা কম। তাই বয়স শিথিল করা সময়ের দাবি। এতে অভিজ্ঞরা প্রকল্পে আসতে পারবেন।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close
Close